• পোলার্ড-জহিরুলের বিধ্বংসী ইনিংসে তৃতীয় জয় ঢাকার

    November 14th, 2017 by Mostaque

    ক্রীড়া প্রতিবেদক

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম

    ঢাকা, ১৪ নভেম্বর: ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড ও জহিরুল ইসলামের বিধ্বংসী ইনিংসের ওপর ভর করে খুলনা টাইটান্সের বিপক্ষে ৪ উইকেটে অবিশ্বাস্য জয় পেয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস। সেইসাথে সিলেটকে পেছনে ফেলে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষস্থান দখলে নিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

    ঢাকার সংগ্রহ ৪ খেলায় ৬ পয়েন্ট। সমানসংখ্যক ম্যাচে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চতুর্থ স্থানে রয়েছে খুলনা।

    মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে টস হেরে প্রথমে ব্যাট করতে নামে খুলনা। উদ্বোধনী জুটিতে দলকে ২২ রান এনে দেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও অস্ট্রেলিয়ার মাইকেল ক্লিঞ্জার। ১০ রানে থাকা ক্লিঞ্জারকে আউট করে জুটিতে ভাঙন ধরান ঢাকা ডায়নামাইটসের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান।

    তিন নম্বরে ব্যাট করার সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেননি উইকেটরক্ষক ধীমান ঘোষও। মাত্র ২ রান করে ফিরেন তিনি। তাই দলীয় ২৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় খুলনা। এরপর দলের চাকা সচল করার চেষ্টা করেছিলেন ওপেনার নাজমুল হোসেন শান্ত ও দক্ষিণ আফ্রিকার রিলি রুশু। কিন্তু এই জুটি বেশি দূর যেতে পারেনি। কারণ ২৫ বলে ২৪ রান করা শান্তকে বিদায় করেন স্পিনার সুনিল নারাইন।।

    শান্ত’র বিদায়ের পর ১৩তম ওভারে ক্রিজে যাবার সুযোগ পান খুলনার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দু’টি বাউন্ডারিতে শুরুটা চমৎকার ছিলো রিয়াদের। তবে নিজের ইনিংসটা বড় করতে পারেননি রিয়াদ। ১০ বলে ১৪ রান করে পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদির প্রথম ও একমাত্র শিকার হন রিয়াদ।

    অধিনায়কের বিদায়ের সময় খুলনার স্কোর ছিলো ১২.২ওভারে ৭১ রান। দলের রান তোলার গতি কম দেখেই ঢাকার বোলারদের ওপর পাল্টা আক্রমণের পরিকল্পনা করেন রুশুও ব্র্যাথওয়েট। তাদের মারমুখী মেজাজে ৩৪ বলে ৫৪ রান পায় খুলনা। এতে লড়াকু স্কোর গড়ার পথ পেয়ে যায় তারা।

    রুশু ৩০ বলে ৩৪ রানে ফিরলেও, ব্যাট হাতে চড়াও ছিলেন ব্র্যাথওয়েট। শেষ পর্যন্ত ২৯ বলে ৪টি চার ও ৬টি ছক্কায় অপরাজিত ৬৪ রান করেন তিনি। তাতে ৫ উইকেটে ১৫৬ রানের ভালো স্কোর গড়ে খুলনা। ঢাকার পক্ষে আবু হায়দার ৪০ রানে ২টি উইকেট নেন।

    জয়ের জন্য ১৫৭ রানের টার্গেট ঢাকার ব্যাটিং লাইন-আপের কাছে আহামরি কিছুই ছিলো না। কারণ তাদের ব্যাটিং লাইন-আপে রয়েছেন টি-২০ স্পেশালিস্টরা। কিন্তু খুলনার বোলারদের পরিকল্পনামাফিক বোলিং-এ শুরুতেই খাদের কিনারায় পড়ে যায় ঢাকা। ২ ওভারের মধ্যে ২ উইকেট হারানোর পর ৪১ রানে পঞ্চম ব্যাটসম্যান হারায় সাকিবের নেতৃত্বাধীন দলটি।

    ওয়েস্ট ইন্ডিজের এভিন লুইস ৪, সুনীল নারাইন ৭, পাকিস্তানের শহিদ আফ্রিদি ১, দক্ষিণ আফ্রিকার ক্যামেরন ডেলপোর্ট ২ ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ১৭ বলে ২০ রান করে ফিরেন। ফলে ৪১ রানে পাঁচ উইকেট হারিয়ে ব্যাকফুটে চলে যায় ঢাকা।

    এরপর ঢাকার হাল ধরেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইরন পোলার্ড। ১১তম ওভারে খুলনার অধিনায়ক মাহমুদুল্লাহ’র শেষ পাঁচ ডেলিভারিতে পাঁচটি ছক্কা হাকিয়ে ঢাকাকে ম্যাচে ফিরিয়ে আনেন পোলার্ড।

    এরপর ১৩তম ওভারে ব্র্যাথওয়েটের ছয় ডেলিভারি থেকে ২টি করে চার ও ছক্কায় নিয়ে হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন পোলার্ড। মাত্র ১৯ বলে হাফ-সেঞ্চুরির স্বাদ পান পোলার্ড। অর্ধশতকের পর নিজের ইনিংসটা আর বাড়াতে পারেননি পোলার্ড। খুলনার পেসার শফিউল ইসলামের বলে ব্যক্তিগত ৫৫ রানে আউট হন তিনি। তার ২৪ বলের ইনিংসে ৩টি চার ও ৬টি ছক্কার মার রয়েছে।

    দলীয় ১১৪ রানে পোলার্ড ফিরে যাবার সময় ঢাকার প্রয়োজন ছিলো ৩২ বলে ৪৩ রান। এ কাজটি দক্ষতার সাথে সম্পন্ন করেন উইকেটরক্ষক জহিরুল ইসলাম ও মোসাদ্দেক হোসেন। সপ্তম উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৪৩ রান যোগ করে ঢাকাকে তৃতীয় জয়ের স্বাদ দেন জহিরুল ও মোসাদ্দেক।

    রিভার্স স্কুপে থার্ড-ম্যান দিয়ে বাউন্ডারি হাকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করা জহিরুল অপরাজিত থাকেন ৪৫ রানে। তার ৩৯ বলের ইনিংসে ৫টি চার ছিলো। অপরপ্রান্তে ১২ বলে ১৪ রান করে অপরাজিত থাকেন মোসাদ্দেক। ম্যাচের সেরা হয়েছেন জহিরুল।

    সংক্ষিপ্ত স্কোর :

    খুলনা টাইটান্স : ১৫৬/৫, ২০ ওভার (ব্র্যাথওয়েট ৬৪*, রুশু ৩৪, আবু হায়দার ২/৪০)।

    ঢাকা ডায়নামাইটস : ১৫৭/৬, ১৯.৫ ওভার (পোলার্ড ৫৫, জহিরুল ৪৫*, শফিউল ২/২৪)।

    ফল : ঢাকা ডায়নামাইটস ৪ উইকেটে জয়ী।

    ম্যাচ সেরা : জহিরুল ইসলাম (ঢাকা ডায়নামাইটস)।

     

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম/বিকে

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন

প্রবাসী তারকা

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০