• চূড়ান্ত পর্বে সুইডেন: ইতালির বিদায়

    November 14th, 2017 by Mostaque

    ক্রীড়া ডেস্ক

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম

    মিলান, ১৪ নভেম্বর: সুইডেনের সাথে বিশ্বকাপের প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগের ম্যাচে গোলশূন্য ড্র করে দুই লেগ মিলিয়ে ০-১ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলতে পারছে না চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালি। ১৯৫৮ সালের পরে এই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলা হলো না তাদের।

    সান সিরোতে ঘরের মাঠে পুরো ম্যাচেই আধিপত্য দেখিয়েয়েছে ইতালিয়ানরা। কিন্তু ভাগ্য সহায় হয়নি। অন্যদিকে স্টোকহোমে প্রথম লেগের ম্যাচে জ্যাকব জোহানসনের একমাত্র গোলে জয়ী সুইডেন ২০০৬ সালের পরে প্রথমবারের মত বিশ্বকাপের চূড়ান্ত পর্বের টিকিট পেলো।

    সান সিরোতে ৭৪ হাজার স্বাগতিক সমর্থকদের মাঝে অসাধারণ এক পরিবেশ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে আজ্জুরিরা। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মত বিশ্বকাপের আসরে দেখা যাবে না ইতালিকে। ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপের প্রথম আসর ছাড়াও ১৯৫৮ সালে সুইডেনে খেলতে ব্যর্থ হয়েছিল ইউরোপিয়ান জায়ান্টরা।

    এই ম্যাচের সাথে সাথে ইতালিয়ান কিংবদন্তি গোলরক্ষক গিয়ানলুইগি বুফনেরও আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে গেল। রেকর্ড ষষ্ঠবারের মত ৩৯ বছর বয়সী বুফনের আর বিশ্বকাপ খেলার জন্য মাঠে নামা হলো না। ইতালির জার্সি গায়ে ১৭৫ ম্যাচ খেলা অভিজ্ঞ বুফন আগেই ঘোষনা দিয়েছিলেন রাশিয়াই হবে জাতীয় দলের হয়ে তার শেষবারের মত মাঠে নামা। ম্যাচ শেষে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের সমাপ্তির ঘোষণা দিতে গিয়ে স্থানীয় টেলিভিশনে আবেগতাড়িত বুফন বলেছেন, ‘আমি দুঃখিত, দুঃখিত, দুঃখিত। আমি আমার জন্য দুঃখিত নই, ইতালিয়ান ফুটবলের জন্য আমি দু:খিত। কারণ আজ আমরা এমন একটি কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছি যা কোনো না কোনোভাবে আমাদের সামাজিক জীবনের ওপরও প্রভাব ফেলবে। এটাই আমার তরফ থেকে একমাত্র দুঃখ প্রকাশে উপায়, আমি এখানেই থামতে চাই। কারণ, সময় কারো জন্য থেমে থাকে না, এটাই স্বাভাবিক। আমি ক্ষমাপ্রার্থী এ জন্য যে জাতীয় দলের হয়ে শেষ ম্যাচটাতে আমি সফল হতে পারলাম না।’

    ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের পরে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর গ্রহণ করা সুইডিশ তারকা জলাটান ইব্রাহিমোভিচের অনুপস্থিতি সত্ত্বেও সুইডেন গত দুই আসরে ব্যর্থ হবার হতাশাই যেনো এবার ভুলতে চেয়েছে। তাতে তারা সফলও হয়েছে।

    ম্যাচ শেষে সুইডিশ কোচ জেনে এন্ডারসন বলেছেন, আমি সত্যিই বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়ছি এবং একইসাথে দারুণ আনন্দিতও। এই ম্যাচটি কার্যত আমাদের সংঘবদ্ধ শক্তিরই বহিঃপ্রকাশ ছিল। ইব্রাকে নিয়ে আমরা ভিন্ন একটি দল ছিলাম। সে একজন অসাধারণ ফুটবলার। তাকে ছাড়া আমাদের সবকিছুর সাথে মানিয়ে নিতে হয়েছে এবং অন্যভাবে নিজেদের গুছিয়ে নিতে হয়েছে।

    ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিকরা সুইডিশদের ওপর চেপে ধরে। এন্টোনিও কানড্রেভার পরে আলেসান্দ্রো ফ্লোরেনজি ও সিরো ইমোবিলের শট সুইডিশ গোলরক্ষক রবিন ওলসেন রুখে দেন। সুইডিশ ডিফেন্ডার মিকালে লাস্টিং আত্মঘাতি গোলের লজ্জায় প্রায় ফেলেই দিয়েছিলেন সফরকারীদের। কিন্তু তার ডিফ্লেকটেড বল বারে লেগে ফেরত আসে। কাল ইতালিয়ান দলে ছিলেন না বেশ কয়েকজন তারকা। মার্কো ভেরাত্তি নিষিদ্ধ, অন্যদিকে সিমোনে জাজা ও লিওনার্দো স্পিনাজোলা উভয়ই রয়েছেন ইনজুরিতে। ড্যানিয়েল ডি রোসি ও আন্দ্রে বেলোত্তি পুরোপুরি ফিট ছিলেন না। সে কারণে কোচ গিয়ান পিয়েরো ভেঞ্চুরা বাধ্য হয়েই ব্রাজিলিয়ান বংশোদ্ভূত জরগিনহোকে প্রথমবারের মত মূল একাদশে সুযোগ দিয়েছিলেন। এ ছাড়া ফ্লোরেনজি ও মানোলো গাব্বিয়াদিনি পুনরায় মূল দলে ফিরেছেন।

    সুইডেনের লাস্টিং নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে দলে ফিরেছিলেন। ইনজুরি আক্রান্ত আলিকন একডালের স্থানে প্রথম দলে সুযোগ পেয়েছিলেন জোহনসন। ম্যাচের শুরুতেই ডি বক্সের মধ্যে মার্কো পারোলোকে পেছন দিক থেকে ট্যাকেল করেছিলেন লুডউইগ অগাসটিনসন। কিন্তু এর বিপরীতে স্বাগতিকদের পেনাল্টির আবেদন নাকচ করেন দেন স্প্যানিশ রেফারি এন্টোনিও মাতেও। ১৫ মিনিটের মধ্যে সুইডেন তাদের প্রথম লেগের গোলদাতা জোহানসনকে হারায়। বাম হাঁটুর ইনজুরিতে পড়ে জোহানসন স্ট্রেচারের সাহায্যে মাঠ ত্যাগে বাধ্য হন। তার স্থানে মাঠে নেমেছিলেন গুস্তাভ সেভেনসন।

     

    বিডিস্পোর্টস২৪ ডটকম/বিকে

অতিথি কলাম

সাক্ষাৎকার

স্পোর্টস ফ্যাশন

প্রবাসী তারকা

জেলা ক্রীড়া সংস্থা

বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থা

আর্কাইভ ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২
১৩১৪১৫১৬১৭১৮১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭২৮২৯৩০